Google এর CEO সুন্দর পিচাইয় কে আমরা কম বেশী সবাই চিনি। জীবন নিয়ে তার সুন্দর একটি মতবাদ আছে। এই মতবাদটি কে ‘Cockroach Theory’ বলা হয়। কি নামটি শুনে অবাক হচ্ছেন? আপনি যে Cockroach এর কথা ভাবছেন এইটা সেই Cockroach ই।

Theory টি খুব Interesting যা আপনাকে জীবন নিয়ে দুটি বিষয় শেখাবে । চলুন দেখি আসলে Cockroach Theory টা কি?

Google CEO Sundar Pichai

সুন্দর পিচায় সাধারণত প্রতিদিন সকালে একটি Resturent এ বসে Coffee খায়। প্রতিদিনের মতো সেদিন ও সে Cofee খাচ্ছিল তার ঠিক কয়েকটি টেবিল পাশেই দুই জন মেয়ে বসেছে তারাও কিছু Order করেছে।

হুট করে তাদের চিল্লা চিল্লিতে তাদের দিকে তাকালেন তিনি। তার চিল্লানোর কারণ হিসেবে বুঝতে পারলেন , একটি তেলাপোকা হঠাৎ কোথাও থেকে উড়ে এসে দুইজন মহিলার থেকে এক মহিলার উপর বসেছে আর সে ভয়ে চিৎকার করে লাফালাফি শুরু করলেন। সে আতঙ্কিত হয়ে হাত ছুরাছুরি করতে থাকলেন যেন তেলাপোকা তার কাছ থেকে চলে যায়। হুট করে তার হাত তেলাপোকার গায়ে লাগায় তেলাপোকা ছুটে গিয়ে পড়লো তার সাথে যে আর একটি মেয়ে ছিল তার গায়ের উপর। এতক্ষন মেয়েটি হাসছিল কিন্তু তার উপর পরাতে সে ও ঘাবড়ে গেল। এবং সেও একই রকম লাফালাফি এবং হাত পা ছুরতে থাকলো।

এমন সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এক Waiter – তাদের এই ছরাছুরিতে তেলাপোকাটি এইবার গিয়ে পড়লো সেই ওয়েটার এর উপর। এবার ওয়েটার উত্তেজিত না হয়ে খুব ঠান্ডা মাথায় তার হাতের খাবারটি পাশের টেবিলে রাখলো, তেলাপোকার দিকে তাকালো এবং সে কি করছে তার গতিবিধি লক্ষ করলো। এবার ওয়েটার তার হাত দিয়ে তেলাপোকাটিকে তার হাতের মুঠোয় ধরলো এবং ছুড়ে রেস্টুরেন্টের বাইরে ফেলে দিল। এর পর সে সুন্দর করে হাত ধুয়ে এসে খাবার নিয়ে চলে গেল।

এই পুরো ঘটনাটি সুন্দর পিচায় দেখছিলেন কফি খেতে খেতে। এই ঘটনা দেখে তার মনে প্রশ্ন আসলো যে – মহিলা দুইজনের এমন আচরনের জন্য কি শুধুই তেলাপোকা দায়ী ছিল?

আর যদি তাই হয় তাহলে ওয়েটার কেন বিরক্ত হলো না? বরং সে খুন ঠান্ডা মাথায় বিষয়টিকে Handel করলো। তার মানে এমন আচরনের জন্য শুধু তেলাপোকাটিই দায়ী নয়। বরং দায়ী ছিল ওই দুইজন মহিলার অক্ষমতা।

Google CEO Sundar Pichai (Photo Credit: AP)

অর্থাৎ তেলাপোকা যে তাদের Disturb করছিল সে Disturbance টা Handel করতে তারা পারছিল না যে কারনে তারা এমন বাজে situation এ পরেছিল।

তখন সে চিন্তা করলো যে – আমার বাবা, বস বা আমার Wife এর চিৎকারে আসলে আমি ডিস্টার্ব হয় না, আমি Disturb হয় কারন তাদের চিৎকারের ফলে যে Disturbance টি তৈরি হয় সেটা আমি সামলাতে পারিনা বিধায়।



আবার Traffic এ যখন বসে থাকি তখন সেটা আমার বিরক্তির কারণ না। আমার বিরক্তির কারন Traffic Jam এর কারনে যে ঝামেলাটা হচ্ছে সেটা Handle করতে পারছি না বলে।
অর্থাৎ হয়তো আমার জরুরি কোন কাজ আছে, Traffic jam এর কারনে সেই কাজটা করতে আমার দেরি হবে যার কারনে একটা ঝামেলা তৈরি হবে কিন্তু এই বিষয়টি আমি Handle করতে পারি না বিধায় আমার বেশী বিরক্ত লাগে ।


সমস্যাগুলো যতটা না বড়, আমি React (প্রতিক্রিয়া) দেখাচ্ছি আরো বড় করে। যা আমার জীবনকে আরো জটিল করে তুলেছে। আমরা প্রতিটা সমস্যাকেই অনেক বড় করে দেখতে অভ্যস্ত।

এর মানে এইখানে সমস্যার চেয়েও বড় সমস্যাটি আমার প্রতিক্রিয়া বা Reaction যা আমার জীবনে ঝামেলার সৃষ্টি করে।

গল্প থেকে শিক্ষা নেওয়া:

  • আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আমার জীবনে প্রতিক্রিয়া দেখা উচিত নয়।
  • আমাদের Life এ অনেক সময় অনেক কিছু হয়, কিন্তু আমাদেরকে সেই বিষয়গুলোতে React করা উচিৎ না।
  • আমাদের উচিৎ Response করা।


মহিলা দুইজন React করেছিল, সেখানে ওয়েটার Response করেছিল।

তাই আমাদের উচিৎ যে কোন বিষয়ে React না করে ঠান্ডা মাথায় Response করা তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব।

A write by:

Ovi Hasan

Product Manager & Digital Strategist
Campus Activity Coordinator, Google Developers Group Bangla (GDG Bangla)

বিদ্রঃ এই থিওরিটি ইন্টারনেটে বিভিন্ন জায়গাতেই পাবেন । আমি বোঝানোর জন্য আমার মতো করে লিখেছি পুরো বিষয়টি । লিখাটি সম্পর্কে আপনার কোন মতামত বা Suggestion থাকলে আপনি দিতে পারেন । ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *